Tuesday, December 31, 2019

Frequently Misused Words

গত তিন বছরে আমার শোনা কিছু শব্দ যেগুলোকে আমি নিয়মিত ভুলভাবে প্রয়োগ হতে দেখেছি সেগুলা লিখব। এই শব্দগুলোর নির্দিষ্ট অর্থ এবং তাৎপর্য আছে। আপনি যখন না বুঝে এই শব্দগুলো ব্যবহার করবেন তখন এই শব্দগুলোর সাথে জড়িত ব্যক্তি এবং কাজগুলোর প্রতি অন্যায় করা হয়। ইংরেজি বর্ণানুক্রমে লিখছি।
1. Autistic:
একজন ব্যক্তি অটিস্টিক মানে তার অটিজম নামের ডেভেলপমেন্ট ডিজর্ডার আছে। এই ডিজর্ডারের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে। অটিস্টিক শিশুরা সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন করতে বেগ পায়, এরা প্রায়ই একই কাজ বারবার করতে পছন্দ করে, শব্দের প্রতি বিভিন্ন মাত্রায় অসহনশীলতা থাকতে পারে এদের। কিন্তু একজন অটিস্টিক ব্যক্তি কখনোই উন্মাদ কিংবা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন নন। আপনি যখন বুদ্ধিহীন কিংবা বিচিত্র বুঝাতে কাউকে অটিস্টিক বলে সম্বোধন করেন, তখন আপনার সীমিত জ্ঞান যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি অটিস্টিক ব্যক্তিদেরকেও অপমান করা হয়।
2. Depression:
ডিপ্রেশন মানে মন খারাপ না। ডিপ্রেশন একটা মানসিক ডিজর্ডার যেখানে একজন ব্যক্তি স্থায়ীভাবে বিষন্নতা ও শূন্যতাবোধের ভেতর দিয়ে যান। ডিপ্রেশনের মাত্রাভেদে একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবন বিভিন্নভাবে অচল হয়ে যেতে পারে।
3. Feminist:
ফেমিনিস্টের বাংলা হচ্ছে নারীবাদী। অনেকে মনে করেন যেসব নারী বড় বড় কথা বলে তারা নারীবাদী, কিংবা যারা নারী অধিকার নিয়ে কথা বলেন তারা নারীবাদী। অনেকে এটাও ভাবেন যে নারীবাদ মানে পুরুষদের ঘৃণা করা। এর সব কটাই ভুল/অসম্পূর্ণ ধারণা। একজন ফেমিনিস্ট ব্যক্তি সকল জেন্ডারের সমতা চান। যেহেতু নারীর প্রতি বৈষম্য থেকে সমতার জন্য লড়াইটা শুরু হয়েছে, সেহেতু এর নাম হয়েছে নারীবাদ। কিন্তু নারীবাদী হতে পারেন নারী, পুরুষ কিংবা ভিন্ন জেন্ডারের যে কেউ। এখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা জেন্ডারের প্রতি কোনোরকম ঘৃণা জড়িত নেই। নারীবাদের শত্রু পুরুষ নয়। নারীবাদের শত্রু হচ্ছে পুরুষতন্ত্র। পুরুষতন্ত্র হচ্ছে একটা সিস্টেম যেখানে নির্ধারিত কিছু নিয়মের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভেদ বজায় রাখা হয়। একজন পুরুষও পুরুষতন্ত্রের ভিকটিম হতে পারেন এবং একজন নারীও পুরুষতান্ত্রিক হতে পারেন। পরেরবার যখন কাউকে নারী অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখবেন, আগে যাচাই করে নেবেন তিনি সব জেন্ডারের সমতা চান কি না। সমতা না চাইলে, ঘৃণার কথা বললে তিনি নারীবাদী নন।
4. Introvert:
ইন্ট্রোভার্টের বাংলা হচ্ছে অন্তর্মুখী। এটা কোনো মানসিক বা সামাজিক সমস্যা না। এইটা একটা পারসোনালিটি টাইপ। কিছু মানুষ হৈচৈ পছন্দ করে। কিছু মানুষ চুপচাপ থাকতে পছন্দ করে। যারা চুপচাপ থাকতে, একা থাকতে পছন্দ করে তাদের অনেকেই ইন্ট্রোভার্ট। এটা তাদের ব্যক্তিত্বের অংশ। যার ব্যক্তিত্ব যেমন তাতে সেভাবে গ্রহণ করুন।
5. Narcissist:
ফেসবুকে সেলফি দিয়ে ক্যাপশনে নার্সিসিস্ট লিখে নিজেকে খুব খুউল ভাবছেন? ভাইবেন না। নার্সিসিজম একটা পারসোনালিটি ডিজর্ডার। নার্সিসিস্ট ব্যক্তিরা প্রচণ্ড আত্মকেন্দ্রিক, ঈর্ষাপরায়ণ এবং দাম্ভিক হন। এরা অন্যের প্রতি কোনো সহানুভূতি ধারণ করেন না। আপনি যদি এমন না হয়ে থাকেন, তাহলে শুধু শুধু নিজের প্রতি ভালোবাসাকে নার্সিসিজমের নাম দিয়েন না। নিজের প্রতি ভালোবাসা থাকাটা ভালো ব্যাপার। নার্সিসিজম ভালো ব্যাপার না। আপনি যদি সত্যিই নার্সিসিস্ট হয়ে থাকেন, তাহলে নিজেকে বদলান। এটা গর্ব করার কিছু না।
6. OCD:
পুরো ফর্মটা হচ্ছে অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজর্ডার। বাংলায় বলে শুচিবাই। ভীষণ খুঁতখুঁতে হওয়া, বারবার একই কাজ করা ওসিডির কিছু লক্ষ্মণ। কিন্তু খাবার, পোশাক কিংবা অন্যকিছু নিয়ে নির্দিষ্ট পছন্দ/অপছন্দ থাকা মানে এই না যে আপনার ওসিডি আছে। ওসিডি একটা গুরুতর সমস্যা। কথায় কথায় ব্যবহার করে শব্দটাকে খেলো করে দেবেন না।
7. Schizophrenia:
কারো কথা বা কাজ আপনার সাথে মিলছে না বলে তাকে স্কিজোফ্রেনিক বলবেন না, প্লিজ। স্কিজোফ্রেনিয়া একটা ভয়ংকর বাজে মানসিক রোগ। এই রোগে একজন মানুষ অসংলগ্ন চিন্তা করেন, কথা বলেন এবং কাজ করেন। একজন স্কিজোফ্রেনিক ব্যক্তি পরিষ্কারভাবে চিন্তা করতে পারেন না, স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। আপনি যদি কোনো সত্যিকারের স্কিজোফ্রেনিক ব্যক্তিকে চিনে থাকেন তার প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। কারণ মানুষটা নিঃসন্দেহে প্রচণ্ড কষ্টে থাকেন।
8. Secular:
ইদানীং দেখছি সেকুলারিজমকে নাস্তিকতার বিকল্প হিসেবে এবং সেকুলার শব্দটাকে গালি হিসেবে ব্যবহার করেন কেউ কেউ। সেকুলারিজম মানে ধর্মনিরপেক্ষতা। একজন সেকুলার ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন না। একটা রাষ্ট্র যখন সেকুলার হয়, তার মানে সেই রাষ্ট্রে সকল ধর্ম সমান মর্যাদা পায়। একজন নাস্তিক ব্যক্তিও একটা সেকুলার রাষ্ট্রে নিরাপত্তা ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু সেকুলারিজম মানে নাস্তিকতা না। আপনি নিজের ধর্ম পালন করে যদি ভিন্ন বিশ্বাস বা অবিশ্বাসের সাথে সহাবস্থান করতে পারেন, তার মানে আপনি সেকুলার ধারার মানুষ।

এমন অপপ্রয়োগের শিকার শব্দ আরো আছে নিশ্চয়ই। ইন্টারনেটের যুগে তথ্য অত্যন্ত সুলভ। কোনো নতুন শব্দ ব্যবহার করার আগে চট করে গুগল করে নিন। তাহলে আপনাকে আর বোকা বোকা কথা বলে বিব্রত হতে হবে না। :)

(এই পোস্টটা প্রথমে ফেসবুকে লিখেছিলাম আমি। সেটা আশাতীত সাড়া পাওয়ায় ব্লগে টুকে রাখলাম, যাতে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।)
Share:

বিজনেস ক্লাস

প্লেনের বিজনেস ক্লাস নিয়ে আমার আগ্রহ ছিলো অনেকদিন থেকেই। মধ্যবিত্ত বাঙালি যখন সরকারি সফরে বিজনেস ক্লাস পায়, তখন কায়দা করে টিকেটের ছবি তুলে ফেসবুকে দিতে দেখেছি (ছবির মতো)।

বন্ধুর মা-বাবা হজ্জে যাওয়ার সময় যে বিজনেস ক্লাসে গেছেন সেই গল্প কায়দা করে বলতে শুনেছি। বাংলাদেশের একজন সেলিব্রেটি রাঁধুনিকে বলতে শুনেছি তিনি যখন বিজনেস ক্লাস থেকে বের হচ্ছিলেন তখন ইকোনমি ক্লাসের এক যাত্রী তার ছবি তুলে কী ভীষণ 'উদ্ধত' আচরণ করেছিল। এসব দেখে আমার জানার ইচ্ছা ছিলো বিজনেস ক্লাসের বিশেষত্ব। এবার এমিরাতস এয়ারলাইনস রীতিমতো যেচে পড়ে আমাকে বিজনেস ক্লাসে তুলে দেওয়ায় সেই ইচ্ছাটা পূরণ হলো। আমার মতো যাদের এ ধরনের হাভাতে কৌতূহল আছে তারা বাকিটা পড়তে পারেন। এবার আমি সফরের প্রথম অংশ এমিরাতসের ইকোনমি ক্লাসে উড়েছি, দ্বিতীয় অংশে উড়েছি বিজনেস ক্লাসে। এই দুইয়ের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরব।



Space:
বিজনেস ক্লাসে বসার জায়গা বড়। সামনে পিছে, ডানে বামে সবদিকেই। সিট হেলিয়ে দিলে পেছনের যাত্রীর বুকের উপর চড়াও হতে হয় না। সুইচ টিপলে পা ছড়িয়ে দেওয়ার জায়গা তৈরি হয়ে যাবে। আরামে ঘুমানো যাবে। আমি সমস্যায় পড়েছি স্ক্রিন নিয়ে। জায়গা বেশি বলে টিভি স্ক্রিন বসার জায়গা থেকে বেশ খানিকটা দূরে। শুরুতে আমার রিমোট কাজ করছিল না। ফলে টাচস্ক্রিন ছুঁয়ে ছুঁয়ে চ্যানেল বদলানোর জন্য আমাকে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পিঠ বাঁকিয়ে স্ক্রিনের কাছে যেতে হচ্ছিল। ইকোনমি ক্লাসে স্ক্রিন ছোট হলেও একদম চোখের সামনে থাকে। সেই স্ক্রিনে আমি আরামে চারটা মুভি দেখে ফেলেছিলাম আগেরবার। বিজনেস ক্লাসে একটা দেখতে দেখতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
Privacy:
বিজনেস ক্লাসের প্রাইভেসি বেশি। দুই সিটের মাঝে হালকা দেয়াল থাকে। যদিও বিজনেস ক্লাসে আমার বাম পাশে বসা বাঙালি ভাইটি পুরো পথ দেয়াল ডিঙিয়ে আমাকে আড়চোখে দেখে গেছেন এবং আমার চ্যাগায় রাখা পায়ে লাথি দিয়ে দিয়ে টয়লেটে গেছেন। তবে তিনি ইকোনমি ক্লাসে সামনের সিটে বসা ভাইটির মতো সিটে হাত রাখতে গিয়ে বারবার আমার টিভি স্ক্রিনে হানা দিতে পারেন নাই।
Hospitality:
বিজনেস ক্লাসের ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্টরা অতিরিক্ত আন্তরিক। সিটে বসতে না বসতেই এসে জিজ্ঞেস করবে আমি কিছু খাবো কি না। ইকোনমি ক্লাসে যেখানে চেয়েও পানি পাওয়া যায় না, গলা শুকিয়ে খটখটে হয়ে গেলে উঠে গিয়ে পানি আনতে হয়, সেখানে বিজনেস ক্লাসে যেচে এসে পানি টানি দিয়ে যাওয়াটা একটু বেশিই ইয়ে লাগে। একবার ধাক্কা লেগে আমার জুসসমেত গ্লাস ফেলে দিলাম মেঝেতে। ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট মিষ্টি হাসি দিয়ে এসে মুছেটুছে আরেক গ্লাস জুস রেখে গেল। আমি সরি টরি বলে অস্থির। সে মিষ্টি হেসে বললো, এটা কোনো ব্যাপার না। অথচ ইকোনমি ক্লাসে এক বাচ্চা আইলে বমি করে দিয়েছিল বলে ফ্লাইট এটেন্ডেন্ট সেটা পরিষ্কার করতে করতে শক্তমুখে বলছিল, "Stay where you are. I am trying to clean it." ফ্লাইট এটেন্ডেন্টের কষ্ট দেখে সহানুভূতি হয়েছিল আমার। বিজনেস ক্লাসের ফ্লাইট এটেন্ডেন্টদের আদরযত্ন দেখে উলটা মরমে মরে গেছি।
Food:
বিজনেস ক্লাসে খাবারের মান এবং অপশন বেশি। ইকোনমি ক্লাসে প্ল্যাকেটজাত জুস দেয়। বিজনেস ক্লাসে দেয় ফ্রেশ জুস। বিজনেস ক্লাসে শ্যাম্পেইন থাকে। আরো থাকে ওয়াইন আর ককটেইলের অনেক অপশন। ইকোনমি ক্লাসে বড়জোর ওয়াইন থাকে। তাও সবখানে না। অ্যাপেটাইজার, মেইন কোর্স, ডেজার্ট সবকিছুতেই বিজনেস ক্লাসে অপশন বেশি। খাবারের সাজসজ্জাও বেশি।
Lavatory:
টয়লেট দুই ক্লাসেই এক। আমি বিজনেস ক্লাসে আরেকটু বড় টয়লেট আশা করেছিলাম।
Others:
ইকোনমি ক্লাসে খাবারের সাথে প্যাকেটজাত ওয়েট ওয়াইপ দেয় একটা করে। বিজনেস ক্লাসে ওঠার পরপরই দেয় একটা ভাপ দেওয়া ওয়েট টাওয়েল। খাবারের সাথে আসে আলাদা ন্যাপকিন। বিজনেস ক্লাসে খাবার দেওয়ার আগে ফ্লাইট এটেন্ডেন্টরা নিজ দায়িত্বে এসে টেবিল পেতে দিয়ে তাতে চাদর বিছিয়ে দেবে। ইকোনমি ক্লাসে কোনো চাদরের বালাই নাই। খাবার এলে নিজ দায়িত্বে টেবিল খুলে নিতে হবে। বিজনেস ক্লাসের হেডফোনের মান ইকোনমি ক্লাসের থেকে ভালো। বিজনেস ক্লাসের কম্বল দুই পরতের। ইকোনমি ক্লাসে এক পরতের। মজার ব্যাপার হচ্ছে ইকোনমি ক্লাসে গুডি ব্যাগ দেয়, যার ভেতরে মোজা, আইপ্যাচ, টুথব্রাশ ইত্যাদি থাকে। বিজনেস ক্লাসে এই জিনিস দেয় নাই। আমি ভেবেছিলাম আরো ভালো মানের গুডি ব্যাগ হয়ত দেবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমি কি আবারো বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করতে চাইবো?
প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে ডজন তিনেক ইকোনমি ক্লাস এবং একখানা বিজনেস ক্লাসের অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, নিজের পয়সায় অদূর ভবিষ্যতে বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণের সম্ভাবনা নাই। কয়েক ঘণ্টার জন্য তুলনামূলকভাবে একটু ভালো কম্বল, একটু ভালো খাবার, কয়েক ইঞ্চি বেশি জায়গা আর একটু বেশি আদরযত্নের জন্য এত টাকা খরচ করতে আমি এখনো প্রস্তুত না। বিশেষ করে টাকা দিয়ে আদরযত্ন কেনার ব্যাপারটা আমার মধ্যে অস্বস্তি জাগিয়েছে। এবার আমি ফ্রিতে বিজনেস ক্লাসে চড়ে বসেছি বটে। ফ্লাইট এটেন্ডেন্টরা তো সেটা জানত না। তারা তাদের কাজ করেছে। ইকোনমি ক্লাসে অভ্যস্ত আমি ক্লাস দিয়ে ভালো ব্যবহার পেয়ে শেখ সাদীর মতো অনুভব করেছি। এই অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার ইচ্ছা আপাতত নাই।
Share:

Tuesday, July 9, 2019

পুকুরপাড়

পুকুরপাড়ের বাসাটা খুব মনে পড়ে। আর মনে পড়ে আমার ফেলে আসা অফিস। সবটাই তো খারাপ অভিজ্ঞতা ছিলো না। ভালো মানুষ ছিলো, ভালো টাকা ছিলো। স্বপ্নে ইদানীং অফিসে যাই। প্রিয় কলিগদের সাথে দেখা করি, বসে গল্প করি। ঘুম ভেঙে মন খারাপ হয়। পুকুরপাড়ের বাসাটা মনে পড়ে। ঝকঝকে রোদের দিনগুলো, বৃষ্টিভেজা দিনগুলো, ঘর অন্ধকার করে মুভি দেখা, প্রতিরাতে মিলেমিশে পিকনিকের মতো করে রাতের খাবার, যখনতখন আড্ডা আর হাত-পা ছড়িয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া। আমি আমার স্বপ্ন আর স্বাধীনতা কিনেছিলাম চাকরির টাকা দিয়ে। এই যে সবকিছু ছেড়েছুড়ে বিদেশে পড়তে এলাম একটা স্বপ্ন নিয়ে, তার দাম দিয়েছি আমার নিজের জীবন দিয়ে, নিজের ছোট ছোট ভালোলাগা আর অনেক ভালোবাসা বিসর্জন দিয়ে। এখানে দুঃখ করারও সময় পাই না। টিকে থাকার হিসেব আর তুমুল ব্যস্ততার মধ্যে স্বপ্নগুলো বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিদিন লড়তে হয়। একান্তই আমার একার লড়াই এটা। কতকিছু ছেড়েছি সে আমিই জানি শুধু।
Share:

Tuesday, April 2, 2019

বাড়ি ফেরা

লতা ছুটিতে বাড়ি গেলে ফিরতে চাইত না। নানান বাহানা করত। টাকাপয়সা ফুরিয়ে গেলে ফিরত অসুখবিসুখ নিয়ে হাড় জিরজিরে হয়ে। ঢাকায় থাকলে ও সুস্থ থাকত, ভালো খেতে পরতে পারত, স্কুলে যেতে পারত। এত 'আরামে' থেকেও কেন ও বাড়ি যেতে চাইত বুঝতাম না। এখন বুঝি। শুরুতে আমার হোমসিকনেস দেখে এখানে প্রফেসররা সহানুভূতি জানাত, পড়ার ছলে ক্লাসে গল্প করত মানুষের অভ্যস্ততা, সাংস্কৃতিক শেকড় নিয়ে। ক্লাসের কেউ কেউ ঝলমলে চাহনি দিয়ে বলত আমি কানাডায় থেকে গেলে কত ভালো হবে। ভালো মনেই বলত। কানাডা ছেড়ে কেন আমি বাংলাদেশে ফিরতে চাই এটা কেউ বুঝে না। বাঙালি অবাঙালি কেউই না। যেমনটা আমি বুঝতাম না লতা কেন ঢাকা ছেড়ে বাড়ি ফিরত।

Share:

Sunday, March 31, 2019

মরার সময় নাই

সকালে উঠে বাসায় কথা বলেছি। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে সারাদিনের রুটিন বানিয়েছি, খাবার তৈরি করেছি, বাসা পরিষ্কার করেছি, এক্সারসাইজ করেছি, তারপর কাজে বসেছি। বেশি না। দশটা কাজ। পড়ার কাজ, অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত কাজ। ইলেকটিভ কোর্সের ঝামেলা এখনো মেটে নাই। মেইল চালাচালি চলছে দশদিকে। অন্য সময় হলে প্যানিক করতাম। এখন প্যানিক করারও সময় নাই। নিজেকে বুঝিয়েশুনিয়ে কাজে বসিয়ে রাখা লাগছে। গত সাত মাসে অসংখ্যবার এমন হয়েছে যে আমার হঠাৎ মনে হয়েছে, আমি এখানে কেন? আমার কি এখানে থাকার কথা? স্ট্রেসে কতকিছু ভুলে যাচ্ছি, অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। তাও যে টিকে আছি এটাই সবথেকে বড় প্রাপ্তি।
Share:

Wednesday, July 4, 2018

মানুষের নোট

এই নোট কাগজের না। সুগন্ধীর নোট। আপাত 'অপ্রয়োজনীয়' জিনিস নিয়ে পড়ার, দেখার অভ্যাস আছে আমার। আজ পড়ছিলাম সুগন্ধী নিয়ে। প্রথমে উইকিপিডিয়া পড়লাম। পড়তে পড়তে অবাক হয়ে ভাবছিলাম সুগন্ধীর নোটের সাথে মানুষের কত মিল!


সুগন্ধীর বেলায় নোট দিয়ে সুগন্ধের ক্রম বুঝানো হয়। প্রতিটা নোটে একাধিক গন্ধের মিশ্রণ থাকে। কোন গন্ধের পরে কোনটা পাওয়া যাবে এটা নকশা করা হয় সুগন্ধী উপাদানগুলোর উদ্বায়িতার সময় অনুযায়ী।


টপ/হেড নোট হলো সুগন্ধীর চেহারা। বুঝতে পারা যায় একদম সঙ্গে সঙ্গে। অনেকটা মানুষের প্রথম দর্শনের মতো। প্রথম ঝলকে যেটুকু বোঝা যায় সেটুকু। ক্রেতা যেহেতু টপনোট শুঁকেই সুগন্ধী বাছাই করবেন, তাই বিক্রির জন্য টপনোট ঝরঝরে, সুন্দর হওয়ার দিকে জোর দেওয়া হয়।

মিডল/হার্ট নোট হলো সুগন্ধীর দেহ। চেহারার মোহ মিলিয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে দেখা দেয়। এই নোট সুগন্ধীর মৌলিক/বেজ নোটের প্রাথমিক কটু গন্ধকে আড়াল করে রাখে। সময়ের সাথে সাথে বেজ নোটের গন্ধে খোলতাই হতে থাকে। সে পর্যন্ত মিডল নোট সামলে নেয়। ঠিক যেন মানুষের চেতনার মতো। চেতনার গভীরে যে কটু সত্য, যে অকপট পরিচয় থাকে তাকে আড়াল করে রাখে শরীর। শরীরের সীমা পেরিয়ে ছুঁতে হয় সেই ভেতরের সত্ত্বাকে। এই সত্ত্বাটা মানুষের ভিত্তি। এটাই রয়ে যায়। সত্ত্বা, দেহ, চেহারা সবই পরস্পরকে প্রভাবিত করে। যেমনটা করে সুগন্ধীর একটা নোট অন্য নোটকে। কিন্তু রয়ে যায় বেজ নোটটাই।


Share:

Thursday, July 21, 2016

হীরের চাকা

কিছুদিন আগে যখন হীরের আংটির খোঁজখবর করছিলাম, তখন কারো কারো (কিংবা হয়ত অনেকের বা সবার) মনে প্রশ্ন জেগেছিলো আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি কি না। যারা আমাকে চেনেন তারা নিশ্চয়ই জানেন বিয়ে করতে আমার হীরের প্রয়োজন হবে না। আংটি আসলে খুঁজছিলাম আমার মায়ের জন্য। এর পেছনে একটা গল্প আছে। মুখে এই গল্পটা কখনোই বলে বোঝাতে পারব না। তাই অক্ষরের আশ্রয় নিচ্ছি। ব্লগ না লিখে আম্মুকে চিঠি লেখা যেত, মেইল করা যেত। কিন্তু আমি চাই আরো অনেকে জানুক এই গল্পটা। আমি নিশ্চিত এই গল্প আমার একার নয়, আরো অনেকের।

গল্পের শুরুটা কবে? দুই যুগ আগে যখন আমার ইচ্ছেপূরণের মূল্য আমার মা দিয়েছিলো তখন? নাকি চার দশক আগে, যখন আমার কিশোরী মায়ের ইচ্ছের মৃত্যু হয়েছিলো তখন?
আম্মু তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে, লড়ছে। ছবিটা আব্বুর তোলা।
আমার মা মফস্বল শহরের ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছয় বোন আর দুই ভাইয়ের সংসারে বেড়ে ওঠা একজন বাঙালি মেয়ে। বাড়ির সংখ্যালঘু কালো সদস্যদের একজন ছিলো বলে তার জগতে গঞ্জনার অন্ত ছিলো না, আর ডানপিটে গেছো মেয়ে ছিলো বলে ভর্ৎসনাও কম সইতে হয়নি। নানাভাইয়ের (মানে আমার মায়ের বাবার) সাইকেল লুকিয়েচুরিয়ে হাফপ্যাডেলে চালাতে গিয়ে উলটে পড়ে গা ছড়ে দিয়ে বেদম মার খেত, লুকিয়ে গান শিখতে যেয়ে ধরা পড়ে গান শেখাও বন্ধ হয়ে গেল। মেয়ে বলে তার নিজের একটা সাইকেল কখনোই হয়নি। এমন আরো না হওয়া ব্যাপারগুলো নিয়ে তৈরি প্রথাগত ফর্দটা যেন তার কন্যাসন্তানকেও বইতে না হয় তার জন্য নিজ হাতে নিজের জীবনের কাঁটাতারগুলো একে একে উপড়ে গেছে সে। চোদ্দ বছর বয়সে বিয়ের ফাঁদ ডিঙিয়েছে, সবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঢাকায় পড়তে এসেছে, নিজের বৃত্তির টাকায় পড়ালেখা শেষ করেছে, নিজের পছন্দে বিয়ে করেছে। হার না মানা কালো গেছো মেয়েটা আপন মনে লড়ে গেছে, গড়ে চলেছে তার অনাগত কন্যাসন্তানের জন্য জগতের আনন্দযজ্ঞের সরলতর পথ।

আমার যখন জন্ম, আমার মায়ের বয়স তখন ২৩। জন্মের পরপর বাবার কাজের সূত্রে ইরানের এক মনোরম গ্রামে থাকতে চলে যাই আমরা। হাসপাতালের সাথে লাগোয়া আমাদের ছোট্ট বাংলোকে ঘিরে কয়েক একরের বিশাল ফলফুলের বাগানে, যেখানে প্রায় বিকেলেই আড্ডা জমত, সেখানে এক আড্ডায় এক ইরানি বালকের বাইসাইকেলে আমার প্রথম হাতেখড়ি। তখন আমার বয়স সম্ভবত পাঁচ। বাইসাইকেল চালানো যখন শিখেই গেছি, এবার তো নিজের বাইসাইকেল চাই। প্রতি মাসে বেতন নিতে দল বেঁধে বড়রা ছোটদের বগলদাবা করে হৈ হৈ করে শহরে আসত। সেবার শহরে গিয়ে বাইসাইকেল দেখা শুরু হলো। 
ছবিটা ঢাকায় তোলা। আমার বয়স তখন ৮ কিংবা ৯। 
সঙ্গের সাইকেলটা সেই BMX-এর বড় সংস্করণ। 
দেশে ফেরার আগে প্রথমটা বদলে একইরকম দেখতে 
বড় সাইকেল নিয়ে এসেছিলো আম্মু, 
যাতে আরো অনেকদিন চালাতে পারি। 
অনেকদিন চালিয়েছিলামও।
অনেক অনেক বাইসাইকেলের ভিড়ে চোখ আটকে গেল একটা কালো-হলুদ BMX সাইকেলে। দাম মনে নেই। তবে দাম বাড়াবাড়ি রকমের বেশি ছিলো সেটা মনে আছে। সঙ্গে টাকা ছিলো না, নাকি খরচের খাতায় বাজেট ছিলো না সেটাও আমার মনে নেই। শুধু মনে আছে আমার মা কিছুতেই সেই সাইকেল ফেলে ঘরে ফিরতে রাজি ছিলো না। সে ঠিক করল তার হাতের আংটি বেচে এই সাইকেলটা সে আমাকে কিনে দেবে। এবার আমি বেঁকে বসলাম। জানি না কেন, মায়ের প্রিয় গয়না বিক্রি করে সাইকেল কেনার ভাবনায় প্রচণ্ড কষ্ট হচ্ছিলো। আম্মুই বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করালো। আমাকে কাঁদতে দেখে আম্মু বললো বড় হয়ে অমন অনেক আংটি আমি আম্মুকে কিনে দিতে পারব, একটা আংটির জন্য নাকি এত দুঃখ পাবার কিছু নেই। তারপর পাশের এক দোকানে গিয়ে আংটি বিক্রি করা হলো। আংটিটার চেহারা স্পষ্ট মনে আছে আমার। সোনার আংটিতে উঁচু উঁচু নকশা করে ছোট ছোট হীরে বসানো। নকশাটা ভালো করে মনে রাখতে হয়েছিলো। কারণ, সেদিন সেই মুহূর্তে ছোট্ট আমি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম বড় হয়ে আম্মুকে অবশ্যই সেই আংটিটা কিনে দেবো।

কতটা বড় হলে তাকে ঠিক বড় হওয়া বলে জানি না। তবে যেই অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্বাধীনতার জন্য আমার মাকে লড়তে হয়েছে, সেই লড়াইয়ে অনেকখানিই জিতে গেছি। এই জয় অবশ্যই আমার মায়েরও। আমার সাথে সাথে আমার সাইকেলও বদলেছে, বড় হয়েছে। ইব্রাহিমাবাদের ধুলোমাখা পথ থেকে ঢাকার রাজপথে দীর্ঘ যাত্রায় বাংলাদেশের মেয়েদের সাইকেলের গল্প অনেকদূরই এগিয়েছে। শুধু বাকি ছিলো প্রতিজ্ঞা পূরণের। এই অনিশ্চিত সময়ে আর সবকিছুর আগে শৈশবের প্রতিজ্ঞা রক্ষা করাটা আমার কাছে জরুরি মনে হলো।

গতবছর বিডিসাইক্লিস্টের বিজয় রাইডে কোনো এক অচেনা ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় তোলা ছবি

গয়নাগাটি যে আদৌ গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয় সে তো সেই পাঁচ বছর বয়সেই জেনেছি। বলাবাহুল্য, হীরের আংটি নিয়ে কোনোই ধারণা আমার ছিলো না। খোঁজ নিতে বসে আবিষ্কার করলাম, ঝকমকে এই পাথরের অর্থমূল্য প্রকারভেদে এক সপ্তাহের নেপাল ট্রিপ থেকে শুরু করে এক মাসের ইউরোপ ট্রিপের সমান হতে পারে। কদিনের সঞ্চয়ে কত মূল্যে অবশেষে এই আংটি কেনা হলো সেই গল্পে আর না যাই। অর্থমূল্য এখানে নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক।

অনেক ধরেবেঁধে যেই আংটিটা আম্মুকে দিয়ে পছন্দ করাতে পারলাম সেটা দেখতে সেই আংটিটার মতো না। আমি তাকে নিয়ে গেছিলাম নিজের জন্য কিছুমিছু কিনব বলে। আমি যে আসলেই 'নিজের জন্য হীরের গয়না কিনতে চাই' সেটা বিশ্বাস করাতেও কিছুটা সময় নিয়ে সামান্য কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিলো। সে আদৌ জানত না সেই আংটিটার নকশা মাথায় গেঁথে বসে আছি, আর সেই আংটির স্মৃতির পথ ধরে এই আংটির পথ খোঁজার শুরু। পুরনো সেই আংটির জন্য হাহাকারও তার ছিলো না। তাই আংটি পছন্দ করার বেলায় পুরনো আংটির নকশা নিয়ে আদৌ ভাবিত ছিলো না সে। তার মেয়ে তাকে ভেবে কিছু দিয়েছে এতেই সে অতি অভিভূত। তার মেয়ে হীরে কেনার যোগ্যতা অর্জন করেছে তাতে হয়ত গর্বিতও। তার আদৌ মনে নেই আমার শৈশবের প্রতিজ্ঞার কথা, যেমনটা মনে নেই সেই আংটির শূন্যস্থান পূরণ করতে নতুন হীরের আংটি কেনার কথাও। 'এতগুলো টাকা' খরচ করে আংটি কেনায় তার ঘোর আপত্তি ছিলো। দোকানে দাঁড়িয়েই অনেকক্ষণ তার সাথে দেনদরবার করতে হয়েছে, ঠিক যেমন সাইকেলের দোকানে দাঁড়িয়ে আমাকে রাজি করতে বেগ পেতে হয়েছিলো তাকে।
হীরের দোকানে দাঁড়িয়ে আমি বলতে পারিনি এই আংটির জ্যোতি আম্মুর চেহারার ছেলেমানুষি খুশি আর গর্বভরা হাসির কাছে ম্লান, শৈশবের সেই প্রতিজ্ঞা পূরণ করতে পারা আমার কাছে অনেক বড় কিছু।


গীতি আপা একবার বলেছিলেন, "প্রতিটা মেয়েই তার মায়ের স্বপ্ন।"
আমার মায়ের অনেক স্বপ্নই আমি পূরণ করতে পারিনি। নিজের সব স্বপ্ন যে পূরণ করতে পেরেছি তাও নয়। আমি চাই প্রতিটা মেয়ে সব কাঁটাতার পেরিয়ে মানুষ হোক, আর প্রতিটা মানুষ নিজের ইচ্ছের সমান বড় হোক, স্বপ্নের মতো উজ্জ্বল হোক তার ভবিষ্যত। সাইকেলের চাকা ঘুরে হীরের আংটির এই যাত্রা আমাদের মা-মেয়ের ইচ্ছেপূরণের পথে ছোট্ট একটা মাইলফলকমাত্র।
Share:

Tuesday, December 9, 2014

নবধারাজলে - উৎপলকুমার বসু

মন মানে না বৃষ্টি হলো এত
সমস্ত রাত ডুবো-নদীর পারে
আমি তোমার স্বপ্নে-পাওয়া আঙুল
স্পর্শ করি জলের অধিকারে।
এখন এক ঢেউ দোলানো ফুলে
ভাবনাহীন বৃত্ত ঘিরে রাখে-
স্রোতের মতো স্রোতস্বিনী তুমি
যা-কিছু টানো প্রবল দুর্বিপাকে
তাদের জয় শঙ্কাহীন এত,
মন মানে না সহজ কোনো জলে
চিরদিনের নদী চলুক, পাখি।
একটি নৌকো পারাবারের ছলে
স্পর্শ করে অন্য নানা ফুল
অন্য দেশ, অন্য কোনো রাজার,
তোমার গ্রামে, রেলব্রিজের তলে,
ভোরবেলার রৌদ্রে বসে বাজার।

কততমবার কবিতাটা পড়লাম জানি না। এত ভালো লাগে! এত সরল তরল স্রোতের মতো শব্দচয়ন!
Share:

Wednesday, December 3, 2014

সেক্সিজম আর ববি ব্রাউন

সেক্সিজম শব্দটা বেশি বেশি শুনছি কদিন ধরে। সেক্সিজম মানে সহজ কথায় লিঙ্গবৈষম্য। কোনো ব্যক্তির সাথে তার লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে বৈষম্যমূলক, অবমাননাকর আচরণ করা গলো সেক্সিজম। না বুঝেই অনেক সময় সেক্সিস্ট আচরণ করে ফেলি আমরা। আর তার জের ধরে চলে তর্কবিতর্ক। এহেন নানান তর্ক দেখে ফ্র্যাঙ্ক জাপার "ববি ব্রাউন" গানটা মনে পড়ে গেল।


গানের কথা:

Hey there, people, I'm Bobby Brown
They say I'm the cutest boy in town
My car is fast, my teeth is shiney
I tell all the girls they can kiss my heinie
Here I am at a famous school
I'm dressin' sharp 'n' I'm actin' cool
I got a cheerleader here wants to help with my paper
Let her do all the work 'n' maybe later I'll rape her

Oh God I am the American dream
I do not think I'm too extreme
An' I'm a handsome son of a bitch
I'm gonna get a good job 'n' be real rich

Women's Liberation
Came creepin' all across the nation
I tell you people I was not ready
When I fucked this dyke by the name of Freddie
She made a little speech then,
Aw, she tried to make me say "when"
She had my balls in a vise, but she left the dick
I guess it's still hooked on, but now it shoots too quick

Oh God I am the American dream
But now I smell like Vaseline
An' I'm a miserable son of a bitch
Am I a boy or a lady, I don't know which

So I went out 'n' bought me a leisure suit
I jingle my change, but I'm still kinda cute
Got a job doin' radio promo
An' none of the jocks can even tell I'm a homo
Eventually me 'n' a friend
Sorta drifted along into S&M
I can take about an hour on the tower of power
'Long as I gets a little golden shower

Oh God I am the American dream
With a spindle up my butt till it makes me scream
An' I'll do anything to get ahead
I lay awake nights sayin', "Thank you, Fred!"
Oh God, oh God, I'm so fantastic!
Thanks to Freddie, I'm a sexual spastic
And my name is Bobby Brown
Watch me now, I'm goin down,
And my name is Bobby Brown
Watch me now, I'm goin down, etc.

বেশ কিছু স্ল্যাং আছে এখানে। যে কারণে বাজারে আসার পর আমেরিকান রেডিওতে গানটি প্রচারিত হয় নি। যে দুটি স্ল্যাংয়ের অর্থ খুঁজতে হয়েছে আমাকে সে দুটি হলো heinie (পশ্চাদ্দেশ) আর dyke (লেসবিয়ান)।

গানটি ববি ব্রাউন নামে এক ধনী সুদর্শন নারীবিদ্বেষী মার্কিন তরুণের জবানিতে গাওয়া। ববি অবলীলায় মেয়েদেরকে তার পশ্চাদ্দেশ চুম্বনের আহ্বান জানায়, কলেজের সহপাঠিনীর কাছ থেকে পড়ালেখায় সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি তাকে ধর্ষণের বাসনা প্রকাশ করে, নারীস্বাধীনতা আর সমকামিতার গায়ে যৌনগন্ধী কটাক্ষ লেপে দেয়। তথাপি নিজেকে চরমপন্থী ভাবে না সে। বরং নিজের অবাধ যৌনাচার নিয়ে সে গর্বপ্রকাশ করে। বিশ্বায়ন, আকাশসংস্কৃতি আর আন্তর্জালের কল্যাণে নিজের ঘরে গা এলিয়ে দেশিবিদেশি শরীর দেখার, প্রতক্ষ্য পরোক্ষ ইঙ্গিতবহ গান শোনার, সেসব নিয়ে মতপ্রকাশের সুযোগ আমাদের রয়েছে। সেই সুবাদে বন্ধুমহলে বা আন্তর্জালে অচেনা শরীর নিয়ে ইঙ্গিতবহ আলাপের চর্চা নতুন কিছু নয়। চর্চা থেকে অভ্যাস আর অভ্যাস থেকে বহুল ব্যবহারে কেউ কেউ রোজকার জীবনে ববি ব্রাউন হয়ে ওঠেন। তার কথা বা কাজ কোনো ব্যক্তিকে তার লিঙ্গপরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত হানতে পারে, এ ব্যাপারটা তখন হয়ত চোখে পড়ে না। ব্যাপারটা নারীপুরুষ সকলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এবং পুরো ব্যাপারটাই খুব আপেক্ষিক; সম্পর্ক, পারিপার্শ্বিকতা আর প্রেক্ষাপটের উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। বন্ধুমহলে চটুল মন্তব্য, এমনকি গালিও হয়ত আমার গায়ে লাগে না। কিন্তু কোনো সহকর্মী যখন কোনো নারীকে উদ্দেশ্য করে "আরে মাইয়ামানুষের কথা!" গোছের মন্তব্য করেন, তখন প্রচণ্ড অপমানিত, বিরক্ত বোধ করি। কথাটি আমাকে উদ্দেশ্য করে বলা না হলেও। "আরে, আপনাকে বলি নাই তো!", "ফাইজলামি করে বলসি" গোছের কৈফিয়তগুলো আন্তরিক হলেও অকার্যকর হয়ে পড়ে যখন আপনি আর অন্য পক্ষ "are not on the same page"। 

এ ব্যাপারে ব্যক্তিগত আর সম্মিলিত ভাবনার দরকার আছে বৈকি!
Share:

Tuesday, March 20, 2012

অ্যাম্বিগ্রাম


ড্যান ব্রাউনের কল্যাণে অ্যাম্বিগ্রামের সাথে অনেকেই পরিচিত। Ambigram শব্দটি ambi (উভয়) ও gram (আঁকা) শব্দ দুটির সমন্বয়ে গঠিত। নাম থেকেই এর স্বভাব সম্পর্কে ধারণা করা যায়। অ্যাম্বিগ্রাম হলো টাইপোগ্রাফের একটা বিশেষ পদ্ধতি যার মাধ্যমে একই শব্দকে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে বা ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশ করা যায়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১৮০ ডিগ্রি ঘোরালেও যে শব্দের রূপ অপরিবর্তিত থাকে তা-ই অ্যাম্বিগ্রাম হিসেবে জনপ্রিয়। যেমন- ambigram শব্দটিরই এই অ্যাম্বিগ্রাম দুটি-

আমার আগ্রহ বাংলা অ্যাম্বিগ্রামে। বাংলা বর্ণমালা বহুমাত্রিক। এতে মাত্রাসহ আর মাত্রাবিহীন বর্ণ যেমন আছে, তেমনি এর আকৃতিবিন্যাসও আলাদা। কারচিহ্নগুলো কখনো সামনে, কখনো নিচে, কখনো উপরে, কখনো নিচে বসে।  অ্যাম্বিগ্রামে যেখানে প্রতিসাম্য (symmetry) মৌলিক বৈশিষ্ট্য, সেখানে বাংলা বর্ণমালা নিয়ে কাজ করাটা বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আর মজাটা সেখানেই। আমার করা পছন্দের কিছু অ্যাম্বিগ্রাম নিয়ে এখানে কথা বলব। আমার মতে দৃষ্টিনান্দনিকতার চেয়ে সহজপাঠ্যতাই অ্যাম্বিগ্রামের গুণগত মানের নির্ধারক। যে অ্যাম্বিগ্রামের মর্মোদ্ধার করতে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয় তা দেখতে যতই ভালো হোক, আদৌ ভালো অ্যাম্বিগ্রাম নয়।
উদাহরণ দিয়ে বলি।

এটা দেখতে ভালো। আমার চেনাশোনা অনেকেই এটা পছন্দ করেছেন। কিন্তু বোঝা যাচ্ছে কী লেখা? বলে দেওয়ার পরে অবশ্য সঙ্গীত লেখাটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। বলে না দিলে যেহেতু মর্মোদ্ধার করা যাচ্ছে না, তাই এটা ভালো নকশা হলেও ভালো অ্যাম্বিগ্রাম নয়।
এবার আরেকটা।

খানিকক্ষণ মন দিয়ে তাকিয়ে থাকলে হয়ত বোঝা যাবে যে সুহান লেখা।
কিংবা এটা।

দ্রোহী বোঝা যেতে পারে।
এ দুটো খুব ভালোমানের অ্যাম্বিগ্রাম না হলেও খুব একটা খারাপও নয়।

এবার পরপর কিছু অ্যাম্বিগ্রাম দিবো। সেগুলোর মূল অর্থ দেবো সবার শেষে।








এবার তালিকা দিই।
প্রিয়ন্তী
মুস্তাফিজ
মনজুর
জাহিদ
মানিক
হাসিব
ধুসর গোধূলী [বানানের ভুলটা ইচ্ছাকৃত]

যে অ্যাম্বিগ্রামগুলো প্রথম দেখাতেই ঠিকঠাক পড়া গেল সেগুলোই আসলে অ্যাম্বিগ্রাম বলার যোগ্য। বাকিগুলো বাতিল।
Share: